ঢাকা, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

পুলিশের এসপি-ওসিসহ তিনজনের বিরুদ্ধে এসআইয়ের স্ত্রীর মামলা,তদন্তে পিবিআই

গাইবান্ধার পুলিশ সুপার (এসপি) নিশাত এ্যঞ্জেলা ও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুর ইসলাম তালুকদারসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছেন উপপরিদর্শক (এসআই) মনিরুজ্জামানের স্ত্রী কাজলী খাতুন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পূর্বপরিকল্পিতভাবে এসআই মনিরুজ্জামানকে এসপি কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে তাঁর ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ জোরপূর্বক কেড়ে নেওয়া হয়। গত বুধবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে গাইবান্ধা সদর আমলি আদালতে কাজলী খাতুন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং আরও দুই থেকে তিনজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।


বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে বাদী পক্ষের আইনজীবী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলম মামলাটি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আদালত আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মামলার তৃতীয় আসামি হলেন লালমনিরহাটের তারেকুজ্জামান তুহিন (২৩), যিনি এসআই মনিরুজ্জামানের বোনের সাবেক স্বামীর মামাতো ভাই।


মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, এসআই মনিরুজ্জামান গাইবান্ধা সদর থানায় কর্মরত অবস্থায় আত্মীয় তারেকুজ্জামান তুহিনের সঙ্গে পারিবারিক শত্রুতা চলছিল। এ সময় তুহিন ফেসবুকে এসআই মনিরুজ্জামানের ছবি ‘ছাত্রলীগ’ ট্যাগ দিয়ে প্রকাশ করে এবং বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা এসপি কার্যালয়ে মৌখিক অভিযোগ দায়ের করেন।


ওই অভিযোগের পর চলতি বছরের ২৫ মার্চ এসপি নিশাত এ্যঞ্জেলা ও ওসি শাহিনুর ইসলাম তালুকদার মনিরুজ্জামানকে এসপি কার্যালয়ে ডেকে নেন। সেখানে প্রবেশ করার পর সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ধ্রুব জ্যোর্তিময় গোপ তাঁর কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ ও ১৩ হাজার টাকা জোরপূর্বক নিয়ে নেন। পরে ডিভাইসগুলো সদর থানার ওসির কাছে রেখে দেওয়া হয়।


এ সময় তাঁকে সতর্ক করা হয় যে, বিষয়টি প্রকাশ পেলে চাকরি হারাতে হবে। এমনকি ভয় দেখানো হয়, নির্দেশ না মানলে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী দিয়ে গুম ও হত্যার ঘটনা ঘটানো হবে—‘আগের আয়না ঘরের মতো গুম’ করার হুমকিও দেওয়া হয়।


অভিযোগে আরও বলা হয়, কিছুদিন পর তাঁকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে গাইবান্ধা থেকে রাজশাহী রেঞ্জে বদলি করা হয়। মোবাইল ও ল্যাপটপ উদ্ধারের জন্য মনিরুজ্জামান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও সফল হননি। শেষ পর্যন্ত ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় তাঁর স্ত্রী আদালতের শরণাপন্ন হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।


ads
ads
ads

Our Facebook Page

↑